চিঠি লেখার নিয়ম ও নমুনাচিত্র

চিঠি লেখার নিয়ম- সম্পর্কিত আজকের আর্টিকেলের সবাইকে স্বাগতম। সুপ্রিয় পাঠক বৃন্দ, আপনি নিশ্চয়ই জানবেন চিঠি মানব জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেননা এমন একটা সময় ছিল যখন আদান-প্রদানের জন্য চিঠি ছিল একমাত্র মাধ্যমিক। বর্তমানে যদিও বা এর প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে গিয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়ে আমাদের চিঠিপত্র দেখতে হয়।

চিঠি লেখার নিয়ম

আর এই চিঠি লেখার একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে যেটা অবশ্যই অনুসরণ করতে হয়। আপনি যদি সঠিক নিয়মে একটি চিঠি বা পত্র লিখতে পারেন তাহলে যার কাছে পাঠাচ্ছেন, সেটা তার বোধগম্য হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে আপনি একজন সুযোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পাবেন। তাই আজকে আমরা খুব সহজ ভাবে বুঝিয়ে দেবো পত্র বা চিঠি লেখার সঠিক নিয়ম। তাহলে আসুন কথা না বাড়িয়ে চিঠি লেখার নিয়ম জেনে নেই।

আরও দেখুনঃ বিকাশ লাইভ চ্যাট

চিঠি লেখার নিয়ম

আপনি যদি সঠিক নিয়মে চিঠি লিখতে চান তাহলে এক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। সেই সাথে জানতে হবে

  • চিঠির অংশ
  • চিঠি/পত্রের প্রকারভেদ

কেননা চিঠির প্রকারভেদের ওপর নির্ভর করে চিঠি লেখার নিয়ম আলাদা হয়ে থাকে। তাহলে আসুন পর্যায়ক্রমে বেশ কয়েকটি বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে আমরা চিঠি লেখার নিয়ম জেনে নেই। 

চিঠি কি?

চিঠি হল ভাব প্রকাশের একটি মাধ্যম। যাকে পত্র নামেও সম্বোধন করা হয়। পত্র বা চিঠি হচ্ছে এমন একটি মাধ্যম যেটার উপলক্ষে নিজের যে কোন কথা লিখে ডাকযোগের মাধ্যমে অন্যের কাছে পৌঁছানো হয়। আজকাল আধুনিকতার ছোঁয়ায় চিঠি আদান প্রদানের ব্যবস্থা হারিয়ে গেছে প্রায়। তবুও চিঠি লেখার নিয়ম জেনে রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে চিঠি লেখার প্রয়োজন পড়ে। 

চিঠি কত প্রকার?

চিঠি বা পত্র সাধারণত দুই প্রকার। সেগুলো হলো:

১. পারিবারিক চিঠি

২. ব্যবহারিক চিঠি

তবে হ্যাঁ, এই দুই প্রকারের চিঠি/পত্র কে ভাগ করলে আবার সাত ধরনের পত্র সামনে আসে। সেগুলো হলো: 

  1. ব্যক্তিগত পত্র
  2. নিমন্ত্রণ পত্র
  3. অভিনন্দন পত্র
  4. আবেদনপত্র
  5. ব্যবসার সংক্রান্ত পত্র
  6. দলিল পত্র
  7. সংবাদপত্র

এখানে ব্যক্তিগত পত্র হচ্ছে সেই সকল পত্র যেগুলো পারিবারিক বিষয়টি নিয়ে লেখা হয়ে থাকে। অপরদিকে সংবাদপত্র হল সে সকল পত্র যেখানে ব্যক্তিগত কিংবা সমষ্টিগত সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা থাকে। এক্ষেত্রে চিঠির দায় দায়িত্ব সম্পূর্ণ পত্র লেখক এর ওপর। নিমন্ত্রণ পত্র হলো কাউকে দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে যে পত্র লেখা হয়, এটা মূলত পারিবারিক পত্রের অন্তর্ভুক্ত। তবে এই কয়েক প্রকারের পত্র লেখার নিয়ম প্রায় একই। আপনি যদি হাতেগুনের ছয়টি অংশ পত্রের মধ্যে স্থাপন করেন তাহলে সেটা সঠিক নিয়মে পত্র লেখা হবে। যা এ পর্যায়ে আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। 

চিঠি/পত্রের অংশ কয়টি ও কি কি?

একটি চিঠিতে মূলত ছয়টি অংশ থেকে থাকে। সেগুলো হলো:

  • মঙ্গলসূচক বাণী
  • পত্র লেখকের ঠিকানা ও তারিখ
  • সংবধান
  • বক্তব্য অংশ
  • ইতি বা সমাপ্ত
  • শিরোনাম অংশ দিয়ে সমাপ্ত।

সঠিক নিয়মে চিঠি লেখার নমুনা

নমুনা ১.

ভালবাসার চিঠি

প্রিয়তমা,

কেমন আছো? ভালো আছো নিশ্চয়ই? আমি ভালো আছি। ভালো থাকারই কথা। তোমার মতো এত দারুণ একটা মানুষের সাথে কেউ খারাপ থাকতে পারে? আজ তোমাকে আমি লিখতে বসেছি। যেনতেন কিছু না কিংবা কোনো প্রেমপত্রও না। তোমাকে আমি চিঠি লিখতে বসেছি। সভ্যতার এ যুগে আমাদের আবেগ অনুভূতিকে মলিন করে দিয়েছে। চিঠি নামক ভালোবাসা ভরা কথাগুলো এখন হারিয়ে গেছে। আর এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের মাধ্যমে মনের কথাগুলো তোমাকে লিখলাম।

প্রিয়া, প্রথম যেদিন তোমার সাথে পরিচয় হয়েছিল সেদিনের কথা মনে আছে? একজন অপরিচিতা মেয়ের সাথে আমার যেমন আন ইজি লাগছিল, ঠিক তেমনি তোমারও আন ইজি লাগছিল। তখনো আমরা জানতাম না আমাদের বিয়ে হবে। তোমার সরলতা, সততা দেখে আমি মুগ্ধ হই। এ যুগে এরকম মেয়েও আছে! কেমন যেন একটা ভালোবাসার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে গেলাম। এরপর বাবা-মাসহ তোমার বোনের বাসায় তোমাকে দেখতে গেলাম। আহ! তোমাকে সরাসরি দেখার পর নিজেকেই বিশ্বাস করতে পারলাম না। তুমি যে কল্পনার চেয়েও সুন্দর। এরপর কিভাবে যে বিয়ে হয়ে গেল টেরই পেলাম না। তবে বিয়ের আগে উৎকণ্ঠায় ছিলাম বিয়ে হবে কি না। এরপর একদিন বিয়ে হয়ে গেল। পরীর মতো একটা বউ এলো আমার ঘরে। যাকে এক মুহূর্ত না দেখলে নিজেকে স্থির রাখতে পারিনি। আমাদের সংসার জীবন শুরু হলো।

প্রিয়তমা, আমি জানি আমি হয়তো তোমার অনেক প্রয়োজন মেটাতে পারিনি। ইচ্ছে থাকলেও আমার সে সাধ্য নেই। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে আমি। আমাদের অনেক সংগ্রাম করে বড় হতে হয়। তুমি আমাকে খুব ভালো করে বুঝো, জানো। তাই তো তুমি বলেছিলে, তোমাকে ভালোবাসা দিলেই তুমি খুশি। আর কিছুই দিতে হবে না। যেন তোমাকে ছেড়ে কোথাও না যাই। আমার অর্থ না থাকুক, কিন্তু ভালোবাসার কমতি ছিল না। আমি তোমাকে ভালোবাসি আমার জীবনের চেয়েও বেশি।

প্রিয়তমা, আমি জানি এ যুগে এরকম স্ত্রী পাওয়া দুষ্কর। আমাদের দু’জনের ছুটে চলা নিরন্তর কোনো এক সমান্তরাল সীমারেখার দিকে। যেখানে শুধু ভালোবাসা দিয়ে সাজানো হয়েছে পৃথিবী। এখানে আছে একটুখানি মান-অভিমান। ভালোবাসার প্রতিযোগিতায় পরস্পরকে অতিক্রম করার অভিপ্রায়।

প্রিয়া, তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি? ব্যর্থতার ভারে আমি যখন হতাশ হয়ে যাই তখন তুমি আমার পাশে ছায়ার মতো থাকো। এরকম একজন স্ত্রী পাশে থাকলে কোনো স্বামীই জীবনে ব্যর্থ হবে না।

অনেক তো বকবক করলাম। এবার বলো তোমার কী অবস্থা? স্বামী, সংসার নিয়ে সুখী তো? আচ্ছা তুমি কি একা থাকলে আমাকে খুব মিস করো? তখন তুমি কী করো? আচ্ছা বাসায় যখন একা থাকো, তখন আমাকে কি মনে পড়ে? পড়ে নিশ্চয়ই? তখন কি আমার কথা ভেবে কয়েক ফোঁটা অশ্রু বিসর্জন দাও?

প্রিয়তমা, আমার জন্য কখনো অশ্রু বিসর্জন দিও না। তোমার চোখের জল আমার জন্য অভিশাপ হয়ে আসবে। আমি চাই তুমি হাসবে। হাসিখুশিতে মেতে উঠবে তোমার জীবন। তোমার জীবনে কোনো হতাশা থাকবে না, দুঃখ থাকবে না। তুমি হবে সবচেয়ে সুখী মানুষ।

আচ্ছা, আজকে কি রান্না করেছ? মাছের চচ্চড়ি করেছ? নাকি কুমড়ার শাক ভাজি করেছ? নাকি ইলিশ মাছের দোপেয়াজা? ইস! তোমার রান্নার এত বেশি ভক্ত আমি তা বুঝাতে পারব না। সত্যি তুমি অনেক ভালো রান্না করতে পারো। রান্নার সময় তুমি এত বেশি মনযোগী থাক তা আমাকে অবাক করে।

প্রিয়, তুমি জানো? তোমাকে নিয়ে কেউ সুনাম করলে আমার বুকটা অনেক বড় হয়ে যায়। আমি জানি তোমার কোনো হেটার্স থাকতে পারে না। কারণ তোমার পরিমিতিবোধ, তোমার ব্যক্তিত্ব অন্য যে কারো থেকে আলাদা করে দেয়।

প্রিয়তমা, আমি তোমাকে একজন সফল ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখতে চাই। তোমার জীবনের সব ইতিবাচক পদক্ষেপে আমি সহযোগিতা করব। কোনো ভুল হলে শুধরে দেবো। আমাকেও শুধরে দিও। জীবনের কোনো মুহূর্তে আমাকে ভুল বুঝো না। মনে কোনো প্রশ্ন জাগলে আমাকে জিজ্ঞাসা করো। আমি চেষ্টা করব সুন্দর করে উত্তর দিতে। একটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে আমাদের ভালোবাসার এক মুহূর্তও যেন নষ্ট না হয়। আমরা এ সময়গুলো আর ফিরে পাব না। তাই এই সোনালি মুহূর্তগুলো হারাতে চাই না।

প্রিয়তমা, দেখতে দেখতে আমাদের সংসার জীবন এক বছর পার করলাম। সত্যি স্বপ্নের মতো সময়গুলো কেটে গেল। আগামীর দিনগুলোও যেন এভাবে কেটে যায় সে দোয়াই করো। আগামীর দিনগুলো যেন আরো সুখী সমৃদ্ধিময় হয় সে আশীর্বাদ করো। আজ আর নয়, আবার না হয় আরেক সময় লিখব। সেদিন হয়তো আরো বেশি ভালোবাসাবাসির কথা লিখব। সেদিনের অপেক্ষায় থেকো। অনেক অনেক ভালো থেকো সেই শুভ কামনা রইল।

ইতি

তোমার স্বামী

 আরও দেখুনঃ প্রকল্প কাকে বলে | প্রকল্প কি | প্রকল্পের বৈশিষ্ট্য, ধরন ও জীবনচক্র

নমুনা ২.

বন্ধুর কাছে চিঠি

১০/০৪/২০২২

বয়রা, খুলনা

প্রিয় শফিক,

ভালোবাসা নিয়ো। তোমার চিঠি পেয়ে খুব আনন্দিত হয়েছি। তোমার সাথে কতদিন দেখা হয় না।

যা হোক, তোমাকে একটা খুশির খবর দিই। এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে আমাদের বিদ্যালয়ে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হবে। ঠিক করেছি আমি বাংলাদেশের বিখ্যাত কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনায় বেড়াতে যাব। তুমি তো জানোই ইতিহাস আর ভূগোল সম্পর্কে আমার অনেক আগ্রহ। এ কারণেই ভাবছি মা-বাবার সাথে এই ছুটিতে সোনারগাঁ ও পাহাড়পুর যাব। এ দুটিই আমাদের দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান। বইয়ে এ দুটো জায়গার কথা অনেক পড়েছি। নিজের চোখে দেখতে পেলে সেই জ্ঞান পূর্ণতা লাভ করবে। স্থানগুলোতে গেলে বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যাবে। তুমিও চলোনা আমাদের সাথে। খুব মজা হবে।

ভালো থেকো। তোমার মতামত জানিয়ো।

ইতি

তোমার শুভার্থী

ফরহাদ

[নাম ঠিকানাসহ নমুনা খাম]

ডাকটিকিট

 প্রেরক,নাম: তারিকুল ইসলামঠিকানা: তাজমহল রোড, চট্টগ্রাম।
প্রাপক,নাম: সানজিদা আক্তারঠিকানা: সাউথ সেন্ট্রাল রোড, খুলনা।

আরও দেখুনঃ মূলধন কাকে বলে ?

পরিশেষে: তো বন্ধুরা চিঠি লেখার নিয়ম সম্পর্কিত আজকের আর্টিকেল এ পর্যন্তই। যদি কোন প্রশ্ন থেকে থাকে কমেন্ট করে জানান এবং নিয়মিত ইনফরমেশন রিলেটেড ও সকল প্রকার চাকরির বিজ্ঞপ্তি পেতে আমাদের সাথে থাকুন। আজ এখানেই আল্লাহ হাফেজ।

আরও দেখুনঃ

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *